নতুন ভোটার আইডি কার্ড চেক করার নিয়ম
ভোটার নিবন্ধন করেছেন কিন্তু কার্ড এখনো হাতে পাননি? স্লিপের ফরম নম্বর দিয়েই অনলাইনে দেখে নিতে পারেন আপনার NID তৈরি হয়েছে কিনা — এবং PDF কপিটি এখনই নামিয়ে নিতে পারেন।
আগে এগুলো হাতের কাছে নিন
ফেস ভেরিফিকেশন শুরু হয়ে গেলে মাঝপথে থামা যায় না — তাই আগেই গুছিয়ে নেওয়া ভালো।
শুরুর আগে যা লাগবে
০/৭মাঝপথে আটকে যাওয়ার প্রধান কারণ — একটা জিনিস হাতের কাছে নেই।
ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
প্রতিটি ধাপ শেষ হলে বাঁ পাশের বাক্সে টিক দিন। আপনি কোথায় আছেন সেটি মনে থাকবে — পেজ বন্ধ করে আবার খুললেও।
হাতের কাছে চারটি জিনিস রাখুন
শুরু করার আগে এগুলো না থাকলে মাঝপথে আটকে যাবেন।
- ভোটার নিবন্ধন স্লিপ — এতে ফরম নম্বর লেখা আছে
- আপনার সঠিক জন্ম তারিখ (দিন-মাস-বছর)
- যে মোবাইল নম্বরটি ভোটার হওয়ার সময় দিয়েছিলেন — OTP ওই নম্বরেই যাবে
- ক্যামেরাসহ একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন — ফেস ভেরিফিকেশনের জন্য
নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে যান
ব্রাউজারে services.nidw.gov.bd খুলুন এবং "রেজিস্টার করুন" অপশনে ক্লিক করুন। কেবল এই ঠিকানাটিই অফিসিয়াল — সার্চ রেজাল্টে আসা অন্য কোনো সাইটে আপনার তথ্য দেবেন না।
অফিসিয়াল NID পোর্টাল খুলুনফরম নম্বরের আগে NIDFN বসান
স্লিপে যে ফরম নম্বরটি আছে, তার আগে NIDFN লিখে দিন — মাঝে কোনো স্পেস নয়। যেমন ফরম নম্বর 123456789 হলে লিখবেন NIDFN123456789।
এই ধাপেই সবচেয়ে বেশি মানুষ আটকায়। শুধু ফরম নম্বর দিলে "তথ্য পাওয়া যায়নি" দেখাবে। উপরের টুলটি প্রিফিক্স নিজে বসিয়ে দেবে।জন্ম তারিখ ও ক্যাপচা দিন
জন্ম তারিখ অবশ্যই দিন-মাস-বছর (DD-MM-YYYY) ক্রমে দিন। ক্যাপচার ছবিতে যা দেখাচ্ছে হুবহু টাইপ করে "সাবমিট" চাপুন।
ইংরেজি সংখ্যা ব্যবহার করুন। বাংলা সংখ্যায় (০১২৩) লিখলে ফরম গ্রহণ করবে না, অথচ কোনো এরর মেসেজও দেখাবে না।বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করুন
বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পরপর সিলেক্ট করতে হবে। ভোটার নিবন্ধনের সময় আপনি যে ঠিকানা দিয়েছিলেন, ঠিক সেটিই দিন — এখনকার ঠিকানা নয়।
- এই ধাপটি আসা মানেই আপনার নিবন্ধন সফল হয়েছে এবং তথ্য সার্ভারে আছে
- ঠিকানা মনে না থাকলে স্লিপের কপি বা পরিবারের কারও NID দেখে মিলিয়ে নিন
মোবাইল নম্বর যাচাই (OTP)
নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের শেষ কয়েকটি ডিজিট দেখানো হবে। "বার্তা পাঠান" চাপলে ৬ সংখ্যার একটি কোড আসবে — সেটি বসিয়ে দিন।
নম্বরটি এখন আপনার হাতে না থাকলে এখানেই থামতে হবে। উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নম্বর পরিবর্তনের আবেদন করুন — অনলাইনে এটি বদলানো যায় না।NID Wallet অ্যাপ দিয়ে ফেস ভেরিফিকেশন
স্ক্রিনে একটি QR কোড আসবে। প্লে স্টোর থেকে "NID Wallet" অ্যাপটি ইনস্টল করে সেটি দিয়ে QR কোডটি স্ক্যান করুন, তারপর নির্দেশনা অনুযায়ী মুখ ডানে-বামে ঘোরান।
- ভালো আলোতে দাঁড়ান — জানালার দিকে মুখ করে, পেছনে আলো রেখে নয়
- চশমা, মাস্ক বা টুপি খুলে নিন
- ফোনটি চোখ বরাবর ধরুন, নিচ থেকে নয়
পাসওয়ার্ড সেট করে কার্ড ডাউনলোড করুন
ফেস ভেরিফিকেশন সফল হলে একটি পাসওয়ার্ড সেট করতে বলবে — এটি সেট করে রাখুন, পরে শুধু NID নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়েই লগইন করতে পারবেন। এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে "ডাউনলোড" চেপে PDF কপিটি নিন।
- পাসওয়ার্ডটি নিরাপদে লিখে রাখুন — ভুলে গেলে আবার পুরো ফেস ভেরিফিকেশন করতে হবে
- PDF কপিটি ফোনে ও ইমেইলে — দুই জায়গায় রাখুন
আগে থেকেই কার্ড থাকলে কী করবেন
হাতে লেখা লেমিনেটেড কার্ড আছে
আপনার নম্বরটি সম্ভবত ১৩ বা ১৭ সংখ্যার। সেই নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে সরাসরি পোর্টালে লগইন করার চেষ্টা করুন — নতুন ভোটারের মতো রেজিস্টার করতে হবে না। তথ্য সার্ভারে থাকলে স্মার্ট কার্ডের PDF কপি পেয়ে যাবেন।
নম্বরটি যাচাই করে নিনঅনলাইনে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না
অনেক পুরনো নিবন্ধন এখনো ডিজিটাল ডেটাবেসে পুরোপুরি আসেনি। উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে পুরাতন NID নম্বর ও জন্ম তারিখ নিয়ে গেলে তারা সার্ভার থেকে যাচাই করে সার্ভার-ভেরিফায়েড কপি দিতে পারেন, প্রয়োজনে রিইস্যুর আবেদনও নেবেন।
সমস্যা সমাধান দেখুন